ঠাকুরভাইদের বক্তব্যে আশঙ্কা, শাহের বক্তব্যে ‘জবাব’ মেলেনি! মতুয়া ভোটারদের উদ্বেগে চাপে বিজেপি, ময়দানে হাজির শুভেন্দু

বার বার ‘পাশে থাকা’র বার্তা। কখনও প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে, কখনও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফ থেকে। হিন্দু উদ্বাস্তু বা শরণার্থীদের ‘কোনও চিন্তা নেই’ বলে বার বার আশ্বাস। বিজেপি তবু উদ্বেগ কাটাতে পারছে না মতুয়াপ্রধান এলাকায়। কারণ, এসআইআর-এর ফলে কোনও মতুয়া ভোটারের নাম কাটা যাবে না, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারেননি। উল্টে মতুয়া মহাসঙ্ঘের দুই সঙ্ঘাধিপতি বিজেপির জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্যেই মেনে নিয়েছেন যে, বেশ কিছু নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য দিকে মতুয়া অঞ্চলে জোরদার প্রচারে নেমেছে তৃণমূল। পরিস্থিতির মোকাবিলায় এ বার পাল্টা আক্রমণের পথে নামলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধাননগর সেক্টর ফাইভে বিজেপি রাজ্য দফতরে তিনি সাংবাদিক বৈঠক শুরু করেন মতুয়া প্রসঙ্গ দিয়ে। প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়েই ছিলেন মতুয়ারাই। এবং মূল নিশানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবিত ঠাকুরনগর সফরের আগে, বিরোধী দলনেতা রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে মতুয়া প্রশ্নে সঙ্ঘাতের সুর কিছুটা চড়িয়ে রাখতে চাইলেন বলেও অনেকে মনে করছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে সোমবার অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকার মতুয়া সমাজকে ভোটব‍্যাঙ্কের চোখে দেখেন। তাই তাঁদের মধ্যে নানা ভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করেন। মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে বিভাজন ঘটানোর চেষ্টাও আমরা দেখেছি। মমতাবালা ঠাকুরকে ব্যবহার করে ঠাকুরবাড়িতে অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’

শুভেন্দু তাঁর বক্তব্য দিয়ে এক দিকে যেমন তৃণমূলকে প্রতিহত করতে চাইছেন, তেমনই তাঁকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে হচ্ছে বিজেপি নেতাদেরই তৈরি করে দেওয়া বিভ্রান্তি এবং আশঙ্কার পরিবেশকে।

Related posts

Leave a Comment